সাফল্যের স্বর্ন শিখরে নঈম নিজাম: এলাকাবাসী এবার এমপি হিসেবে দেখতে চান

স্টাফ রিপোর্টার: নঈম নিজাম দেশের একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক-কলামিষ্ট। সম-সাময়িক রাজনীতির আলোচিত বিশ্লেষক । জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের সহজ পথ প্রদর্শক। তিনি দেশের সর্বাধিক প্রচারিত জনপ্রিয় সংবাদপত্র দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন এর সম্পাদক । মেধা, সততা,পরিশ্রম তাকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের দৌরগোড়ায় । জাতীয় পর্যায়ের হাতে- গোনা কয়েকজন সাংবাদিক-কলামিষ্টের মধ্যে অন্যতম একজন।

১৯৬৫ সাল ৫ নভেম্বর নঈম নিজাম কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা ইউনিয়নের গোহারুয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ভূঁইয়া বংশের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম মরহুম মোখলেছুর রহমান, মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। ৫ ভাইয়ের মধ্যে নঈম নিজাম সবার ছোট। ৩ বোন বিবাহিতা । তাঁর বড় ভাই মরহুম আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা ।কর্মক্ষেত্রে ভাইয়েরা সকলে প্রতিষ্ঠিত ।
গাঁয়ের আঁকাবাঁকা পথেই কেটেছে নঈম নিজামের শৈশব-কৈশোর ।সহপাঠীদের মধ্যে নঈম নিজাম ছিল সবার চেয়ে মেধাবী ও বিচক্ষণ । তিনি নিরবে-নির্জনে বসে প্রকৃতিকে নিয়ে ভাবতেন । দুঃখে-অভাবী মানুষগুলোর জন্য তাঁর মায়া হতো। ছাত্রজীবন থেকেই মানব সেবায় ছিলেন অন্যদের চেয়ে এগিয়ে । কম বয়সে সমাজ সেবামূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত হবার সুবাধে তিনি সকলের আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। উদ্ভাসিত প্রতিভা আর কর্মদক্ষতাই তাকে মহান করে তুলে ।

মাধ্যমিকে অধ্যয়নকালীন সমাজসেবার পাশাপাশি লেখালেখিতে পারদর্শী ছিলেন । কলম ছিল তাঁর নিত্য সঙ্গী।সমাজের নানান নির্যাতনের উপর সচিত্র ফিচার নিয়ে তিনি ১৯৮৮ সালে প্রথম দিকে সাপ্তাহিক সন্দ্বীপ পত্রিকায় অফিসে গিয়ে হাজির হন । লেখার গুনগত মানে আকৃষ্ট হয়ে পত্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে লেখা-লেখির বিষয়ে উৎসাহ যোগান । ঘড়ির কাঁটায় সময় এগুতে থাকে। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি। কলেজ জীবন শেষ করেন । এরই ফাঁকে বিভিন্ন পত্রিকায় ও সাময়িকীতে তাঁর লেখা-প্রতিবেদন গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয় । সাংবাদিকতার পেশার পাশাপাশি নঈম নিজাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে এন.ডি.সি কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে সাংবাদিকতার উপর ডিপ্লোমা করেন । পেশাগত জীবনে ১৯৮৮ সালের পর নঈম নিজাম, সন্দ্বীপ পত্রিকার পাশাপাশি সাপ্তাহিক বিচিন্তা, খবরের কাগজে নিয়মিত লিখতেন । ১৯৮৯ সালে তিনি সাপ্তাহিক এ সময় পত্রিকার চীফ রিপোর্টারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেধা, পরিশ্রম, কর্মদক্ষতা তাকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যেতে থাকে। চলার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা ডিঙ্গিয়ে তিনি দুর্বার গতিতে এগিয়ে যান সম্মুখ পানে । ‘৯০ সালে তিনি সাপ্তাহিক স্বদেশ খবর ও দৈনিক দেশ বাংলা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন । একই সালে তিনি নরসিংদি’র এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে খ্যাতিমান সাংবাদিক ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । দেশের শীর্ষ স্থানীয় জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের মহিলা পাতার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন ছাড়াও নারীদের নিয়ে বিভিন্ন সচিত্র প্রতিবেদন লিখে নারী সম্প্রদায়কে সমাজের উচ্চ স্থানে আসীন করতে সাহসী ভূমিকা রাখেন ফরিদা ইয়াসমিন । বর্তমানে ফরিদা ইয়াসমিন দৈনিক ইত্তেফাকে কর্মরত এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান সভাপতি। এর আগেও তিনি সভাপতি ও দুই বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক । দাম্পত্য জীবনে নঈম-ইয়াসমিন দম্পতি দু’সন্তানের গর্বিত জনক-জননী । ছেলে মাহীর আবরার যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব ব্রিজকোর্ট ইন্টারন্যাশনালে বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও নুজহাত পূর্ণতা ইউনির্ভাসিটি অব মেসাচুয়েটস এ মনোরোগ বিষয়ে পিএইচডি করছেন।

নঈম নিজাম ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের কাগজের যোগ দেন। পরবর্তীতে ভোরের কাগজে সিনিয়র রিপোর্টার হিসাবে কাজ শুরু করেন। খ্যাতিমান সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। সকল শ্রেনীর সাংবাদিক, সংবাদপত্রের কলা- কুশলী ও কলামিস্টের সাথে তাঁর সখ্যতা গড়ে, ১৯৯৫ সালে তিনি স্ব-উদ্যোগে নিউজ মিডিয়া” নামক একটি বার্তা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজেই নিউজ মিডিয়ার প্রধান সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র । বিভিন্ন সংবাদপত্র ওই মিডিয়া থেকে সংবাদ সরবরাহ করে । ১৯৯৯ সালে দৈনিক বাংলা বাজার পত্রিকা কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুরোধে তিনি বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে সেখানে যোগদান করেন।
তারপর সংবাদপত্র ছেড়ে ইলেকট্রিক মিডিয়ায় তাঁর পদচারণা শুরু হয়। নঈম নিজাম ২০০০ সালের জানুয়ারিতে জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার অনুষ্ঠান প্রযোজক ও উপস্থাপক হিসাবে ইলেকট্রিক মিডিয়ায় কর্মজীবন শুরু করেন। সততা ও কর্মদক্ষতার কারণে মাত্র দেড়বছরের মাথায় ২০০১ সালের জুন মাসে এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক হিসাবে পদন্নোতি পান। নঈম নিজাম সম-সাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ক ‘অন্যদৃষ্টি’ নামক টক-শো উপস্থাপনা করেন এটিএন বাংলায়। বর্তমানে এটিএন বাংলা টিভি চ্যানেলটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল । আর সে সুনাম অর্জন, অবদান অনেকটা নঈম নিজামের অক্লান্ত শ্রম ও মেধার ফসল । তিনি দীর্ঘদিন এটিএন বাংলায় দক্ষতার সাথে কর্মরত ছিলেন। নঈম নিজান দীর্ঘদিন ইউএস থেকে প্রচারিত এসটিভি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন । তিনি টিভি চ্যানেলটিতে সুনাম ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাদারিত্বের প্রতি আন্তরিকতার কারণে নঈম নিজাম পথচলা স্বপ্নময় । তিনি স্বপ্ন দেখেন দেশের সর্বাধিক প্রচারিত একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের। যেমন পরিকল্পনা তেমন কাজ । বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানায় নঈম নিজাম এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ২০০৯ সালে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ যাত্রা শুরু করে । তথ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী প্রতিবছরই বাংলাদেশ প্রতিদিন দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। আর বাংলাদেশ প্রতিদিন এর সাফল্যগাঁথা পথচলার নেপথ্যের নায়ক পত্রিকাটির সম্পাদক নঈম নিজাম। এছাড়াও তিনি দেশের খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন রেডিও ক্যাপিটাল ও নিউজ টুয়েন্টি ফোর এর সিইও’র দায়িত্ব পালন করেছেন । বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিভার কারণে বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টি ফোর ও রেডিও ক্যাপিটাল এর সিইও এর দায়িত্ব পালন করে এ দু’টি গণমাধ্যমকে দেশ-বিদেশেজনপ্রিয়তার শীর্ষস্থানে নিয়ে এসেছেন ।

কর্মজীবনে সাংবাদিকতার পাশাপাশি নঈম নিজাম কমনওয়েলথ জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা ক্লাব, বনানী ক্লাব, গুলশান অল কমিউনিটি ক্লাব, ঢাকা বোর্ড ক্লাব, কুমিল্লা ক্লাবের সদস্য । তিনি একজন ক্রিড়াপ্রেমীব্যক্তিত্ব। তিনি শেখ রাসেল ক্রিড়াচক্রের পরিচালক, শেখ জামাল ক্লাবের স্থায়ী সদস্যসহ বিভিন্ন ক্রিড়া সংস্থার সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ষ্টামফোর্ডের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ষ্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফিল্ম মিডিয়া ও জার্নালিজম’ এবং ‘প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক’ মিডিয়া নামে দু’টি ডিপার্টমেন্ট পরিচালনা করেছেন। তিনি ন্যাশনাল ফোনের সম্মানিত উপদেষ্টা ছিলেন । বর্তমানে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন । তিনি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে ‘গেষ্ট টিটার’ হিসেবে সাংবাদিকতা বিষয়ে ক্লাশ নেন । সাংবাদিকতায় নঈম নিজামকে একজন দিকপাল বলা চলে। তাঁর আশীর্বাদ, বুদ্ধি-পরামর্শ নিয়ে অসংখ্য সাংবাদিক আজ জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রেখে চলেছে। সব মিলিয়ে অনন্য উচ্চতার নাম নঈম নিজাম।
কুমিলার নাঙ্গলকোটের কৃতি সন্তান, দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ সম্পাদক, জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘নিউজ টোয়েন্টি ফোর’ এবং ‘রেডিও ক্যাপিটাল’ এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) নঈম নিজাম এর উদারতায় পাল্টে গেছে নাঙ্গলকোটের ‘হেসাখাল বাজার নঈম নিজাম কলেজ’। কলেজটিকে ডিগ্রী পর্যায়ে উন্নীত, কলেজের নতুন নামকরণ ও কলেজের জন্য জায়গা ক্রয়সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে এ পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সর্বমোট ৪৪ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে গ্রামীন জনপদে শিক্ষা বিস্তারে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
সাংবাদিক হয়েও শিক্ষার প্রতি নঈম নিজাম এর এমন আন্তরিকতায় নাঙ্গলকোটের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের মুখে তাঁর প্রশংসার কথা শুনা যাচ্ছে। একজন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী হিসেবে নঈম নিজাম যে উদারতা দেখিয়েছেন নাঙ্গলকোটে তা ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এজন্য অনেকে তাঁকে ‘শিক্ষারত্ম’ উপাধি দিয়েছেন।

সূত্র মতে- একসময়ের উন্নয়ন বঞ্চিত নাঙ্গলকোটের হেসাখাল এলাকায় শিক্ষার আলো বঞ্চিত থাকলেও ওই এলাকার মেধাবী ও উদ্যমী ব্যক্তিত্ব আবদুল মতিন ঠিকাদারী ব্যবসায় নিজের উপার্জিত অর্থে ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ১৯৯৬ সালে হেসাখাল বাজার কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এলাকাবাসীর অনুরোধে কলেজটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আবদুল মতিন। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি লাভ করে। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন বেতন না নেয়ায় কলেজের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় চরম আর্থিক সংকট দেখা দেয়। গ্রামীন জনপদে উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটিকে ডিগ্রী পর্যায়ে উন্নীত করতে এলাকাবাসীর স্বপ্ন থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছিল না।
২০০৮ সালে কলেজ অধ্যক্ষ আবদুল মতিনের প্রস্তাবে ও এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে সাংবাদিক নঈম নিজামকে কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নঈম নিজাম ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কলেজের উন্নয়নে ৪ লাখ টাকা প্রদান করে কলেজের আজীবন দাতা সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কলেজের নতুন নামকরণে ১৫ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন সময়ের কলেজের জন্য জায়গা ক্রয় সহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আরো ২৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। কলেজটির উন্নয়নে তিনি এ পর্যন্তসর্বমোট ৪৪ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। কলেজটির প্রতি সাংবাদিক নঈম নিজামের এমন আন্তরিকতায় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে কলেজটিকে ‘হেসাখাল বাজার নঈম নিজাম ডিগ্রী কলেজ’ এ নামকরণ করা হয়।
কলেজটিকে ঘিরে নঈম নিজাম এর স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। সাম্প্রতিক তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় কলেজটিকে ডিগ্রী পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। এতে ওই এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ মহাখুশি। একজন সাংবাদিক হয়েও নাঙ্গলকোটের গ্রামীন জনপদে শিক্ষা বিস্তারে নঈম নিজাম একের পর এক যে অবদান রেখে চলেছেন তাতে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন। অনবদ্য এমন অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ অনেকে তাকে ‘শিক্ষারত্ম হিসেবেও উপাধি দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে- নঈম নিজাম ‘হেসাখাল বাজার নঈম নিজাম ডিগ্রী কলেজে’র গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার পর থেকে পাল্টে গেছে কলেজটির চিত্র। একসময় ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে দুঃশ্চিন্তায় পড়লেও এখন সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে তাদেরকে ভাবতে হয়না। বিনা বেতনে এ কলেজ থেকেই এলাকার শিক্ষার্থীরা ডিগ্রী পাশ করার সুযোগ পাবে। নঈম নিজাম ভবিষ্যতে তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কলেজটিতে অনার্স কোর্স চালু করতে সক্ষম হবেন বলে এলাকাবাসী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খ্যাতিমান সাংবাদিক নঈম নিজাম ৯০ দশকের পর থেকে নাঙ্গলকোটের উন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকে অধ্যাবধি পর্যন্ত নাঙ্গলকোটের শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি প্রশংসনীয় অবদান রেখে আসছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি দীর্ঘদিন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতেও রয়েছেন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি ঢাকা কাটালেও নাঙ্গলকোটের মাটি ও মানুষের প্রতি তার হৃদয়ের যথেষ্ট টান রয়েছে। তিনি সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন নাঙ্গলকোট। যোগ দেন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে । নঈম নিজাম সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার খুবই আস্থাভাজন ছিলেন। জয়নাল আবেদীন তাকে খুব ভালোবাসতেন। আওয়ামী রাজনীতির প্রতি নঈম নিজাম এর ভালোবাসার কারণে তিনি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াকে সকল কাজে সহযোগিতা করেছেন।
১৯৮৭ সাল থেকে নঈম নিজাম নাঙ্গলকোটের আওয়ামী রাজনীতির সাথে পুরোপুরি সম্পৃক্ত হন। রাজনীতিতে তিনি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়াকে যুগিয়েছেন উৎসাহ-উদ্দীপনা। ’৯৬ সালের নির্বাচনে নঈম নিজাম এর ঢাকাস্থ অফিসে বসেই জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া মনোনয়ন ফরম পূরণ করেন। আর সে বছরই জয়নাল আবেদীন ভূঁ‚ইয়া এমপি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন । ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে নঈম নিজাম ছিলেন জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়ার খুবই কাছাকাছি। তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যোগ দিয়ে জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়াকে বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
নঈম নিজাম বরাবরই সকল লোভ-লালসার উর্ধ্বে। তিনি সামাজিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে মন খুলে মিশেন। এমন গুণাবলীর কারণেই তিনি নাঙ্গলকোট তথা কুমিল্লা-১০ আসনের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসার প্রিয়জন হয়ে উঠেছেন। জয়নাল আবেদীন ভ‚ঁইয়ার মৃত্যুর পর নাঙ্গলকোটের আওয়ামীপ্রেমিরা নঈম নিজামকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার জন্য উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগান। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি আসেন জনতার কাতারে। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি। নাঙ্গলকোটের সর্বত্রই বয়ে যায় তাঁর গণ-জোয়ার। ওয়ান ইলেভেন পূর্ববর্তী সময়ে বাতিল হওয়া নির্বাচনে মনোনয়ন দৌঁড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন নঈম নিজাম। কিন্তু তখন বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান ডা. একেএম কামারুজ্জামান। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তখন ডা. কামারুজ্জামানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন- ‘নঈম নিজাম এর মনোনয়ন আপনাকে দিয়েছি’। শেষ পর্যন্ত ওয়ান ইলেভেন এর আবির্ভাবে ওই নির্বাচন পন্ড হয়ে যায়। নাঙ্গলকোট একটি স্বতন্ত্র আসন থাকলেও ওই সময় নাঙ্গলকোটের সাথে সদর দক্ষিণ ও লালমাইকে যুক্ত করে কুমিল্লা-১০ আসন ঘোষণা করা হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ওই আসনে এমপি নির্বাচিত হন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ওই সময় থেকে শুরু করে যতটা জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল অতীতের মতো প্রতিটি নির্বাচনে নঈম নিজাম দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করেন। রাজনীতিতে তাঁর এমন ত্যাগের কারণেই আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচনে তাকে নৌকার কান্ডারি হিসেবে দেখতে কুমিল্লা-১০ আসনের আওয়ামীপ্রেমিসহ সর্বস্তরের মানুষ একাট্টা।
আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও কুমিল্লা-১০ আসনের প্রতিটি এলাকায় একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে নঈম নিজামের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর নঈম নিজাম মন্ত্রণালয় থেকে অসংখ্য ব্রীজ, কালভার্ট, রাস্তা অনুমোদন করে অবহেলিত নাঙ্গলকোটের উন্নয়নে প্রশংসনীয় অবদান রাখেন। তাঁর বিভিন্ন উন্নয়নের স্বাক্ষর নাঙ্গলকোটে এখনো পরিলক্ষিত। বিগতদিনে তিনি এমপি বা মন্ত্রী ছিলেন না ঠিকই; কিন্তু সকল শ্রেণীর মানুষের সাথে তার সুসম্পর্কের কারনেই তা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে তৎকালীন এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের সাথে তাঁর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি নাঙ্গলকোটের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। নঈম নিজাম এসব উন্নয়ন ছাড়াও নাঙ্গলকোটের অসংখ্য বেকার যুবককে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতে চাকুরির ব্যবস্থা করে অনেক পরিবারে হাসি ফুটিয়েছেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ ও লালমাই) আসনকে উন্নয়নের মহাসড়কের এগিয়ে নিতে এখানকার আওয়ামী লীগের তৃণমুলের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের দাবি আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হিসেবে সজ্জন ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিষ্ট নঈম নিজামকে দেখতে চান । তাদের মতে- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নঈম নিজাম এর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি মেধাবী ও প্রজ্ঞা সর্বোপরি একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে কুমিল্লা-১০ আসনে সামগ্রিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মডেল সংসদীয় আসনে রূপান্তর করতে সক্ষম হবেন। এজন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট তাদের প্রাণের দাবি আসন্ন নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসনে নঈম নিজামকে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হোক। আর তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে এ আসনে ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে আসনটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে পারবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *