নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুককে দারোগা গিরির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, গুণ্ডামির নয়: ডা: জাফরুল্লাহ

ডেস্ক রিপোর্টার: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, চালাকি, কারচুপি ছেড়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে হাঁটুন। আর তা না হলে দেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে বলে মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুফিবাদী কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ গোলাম মঈনুদ্দীনের ওপর বিচারবহির্ভূত নির্যাতনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ তরিকতে ইসলাম ঐক্যজোট এবং পীর মাশায়েখ ঐক্য পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক শাহ সুফি শামসুল আলম চিশতির সভাপতিত্বে সভায় পীরজাদা আনিছুর রহমান জাফরী বক্তব্য রাখেন।
ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেখেন শান্তির দ্বীপ ছিল শ্রীলঙ্কা। শিক্ষিত মানুষ। শান্তির দেশে কী হচ্ছে। আগুন জ্বলছে। গণহারে দারিদ্র্য বাড়ছে। আমরা সে দিকে যাবো না তো! আমাদের সবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের উচিত আল্লাহকে বলা আমাদের সঠিক পথ দেখাও। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে না হাঁটলে অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে। সেখানে যা ঘটছে তেমন কাহিনী এখানেও সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং সাবধান, সাবধান।
গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে সুফিবাদী গায়ক সৈয়দ গোলাম মইনুদ্দিন টিপুকে থানায় ডেকে মারধর ও গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ইসলাম গুণ্ডামি করার অবকাশ দেয়নি। ফারুককে দারোগা গিরির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, গুণ্ডামির নয়। কে কী করেছে এটির বিচার করবেন আল্লাহ। আমি আপনি না।
তিনি আরো বলেন, কুরআন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতার বই। কুরআনকে বহুবার নোবেল প্রাইজ দেয়া উচিত ছিল। আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য মুসলমানরা নিজেরা নিজেদের ভালো কিছু করতে চাই না। ইসলাম যুক্তিতর্কের ধর্ম। তিনি বলেন, ইসলামে কোনো মহিলার নামে গিবত করা সবচেয়ে কঠিনতম গিবত। গিবত করার আগে তার প্রমাণ থাকতে হবে। দেখেন কী জ্ঞানের কথা। ক’টা প্রমাণ থাকতে হবে, একজন মানুষ ভুল করতে পারে কিন্তু তার একাধিক প্রমাণ থাকতে হবে। দেখেন কিভাবে সবগুলো জিনিসের সৃষ্টি করেছে।
সুফিদেরকে গ্রামগঞ্জের সর্বত্র ইসলামের বাণীকে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ডা: জাফরুল্লাহ বলেন, এখনো অনেক আলেম জেলে আছে। আপনারা কী করে এখনো চুপ করে আছেন আমি জানি না। এখনো তাদের জামিন হয়নি।
তিনি বলেন, মুসলমানদের উদার হওয়ার প্রয়োজন আছে। কারণ আমি আমরা মিথ্যাচার করব না। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে সুখী সমৃদ্ধি বাংলাদেশ জন্য দোয়া করব। মুসলমানরা অন্য ধর্মের প্রতি পরমত সহিষ্ণুতার গুরুত্ব দেবে। অন্যের ব্যাপারে জোর জবরদস্তি করা চলবে না। আমরা যদি ভালো মুসলমান হই ভালো মুসলমান হওয়া আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রতিটি স্কুল-কলেজে আরবি পড়ানো উচিত। বাংলাদেশ তরিকতে ইসলাম ঐক্যজোটের সমন্বয়ক, পীরজাদা আনিসুর রহমান জাফরীর পরিচালনায় এবং বাংলাদেশ তরিকতে ইসলাম ঐক্যজোট এবং পীর মাশায়েখ ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক, শাহ সুফি শামসুল আলম চিশ্তীর সভাপতিত্বে এই প্রতিবাদ সভায়, প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রধান আলোচক, আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদের মহাসচিব, নুরে হক দরবার শরীফের পীর শাহসূফি আল্লামা হানিফ নূরী, সমন্বয়ক, বাংলাদেশ তরিকতে ইসলাম ঐক্যজোট। বিশেষ আলোচক, জাতীয় একুশে পদকপ্রাপ্ত আধ্যাপক, ড. সুমল বড়ুয়া, এবিপার্টির সদস্য সচিব, জননেতা মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক, সৈয়দ তারিক, পীরে তরিকত আবুল বাশার খান্দানী, সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম শাহিন নুরী সুরেশ্বরী, পীর সামসুজ্জামান চৌধূরী (সজিব), শাহসূফী কাজি জাবের আহম্মদ আল জাহাঙ্গিরী, ও অন্যান্য পীর-মাশায়েখগণসহ এই সভায় বিশিষ্ট উদারনৈতিক, সুফিবাদী ও মানবতাবাদী চিন্তকেরা বক্তব্যে বলেন- “বাংঙ্গালী জাতি হিসেবে আমরা দেখতে পাই, শহীদ গাজী রাজা বাদশাহ বা কোন সেলিব্রিটির মরণকালে দাফনকালে বিউগলে করুণ সুর বাজানো চিরাচরিত রীতি। সুফীমতে পীর মাশায়েখরা রূহানী বাদশাহ বা আধ্যাত্মিক সম্রাট খাজা আজমেরীকে এইজন্যই সুলতানুল হিন্দ বলা হয়। তাই তাদের মরণকালে ঢোলবাঁশি বাজানোর কথা বলা তাদের প্রেমের দাবী এটা শরঈ কোন বিধান নয়। এই ভিত্তিহীন অজুহাতে তার উপর বিচার বহির্ভূত অমানবিক নির্যাতন নাগরিক অধিকার পরিপন্থি। বক্তারা এহেন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় এনে সুবিচারের ব্যবস্থা করার জন্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী সর্বাপরি সুফিবাদে বিশ্বাসী মহিয়সী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *