কুমিল্লায় হিজড়াদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার।।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাটে বাজারে ও বিভিন্ন সড়কে হিজড়াদের উপস্থিতি আশংকাজনকভাবে বেড়েছে। তারা ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে পড়া যানবাহনে কিংবা যাত্রী ওঠা নামা করার সময় গাড়িতে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে একপ্রকার জোর করেই টাকা আদায় করছে। জোরপূর্বক টাকা আদায়ের ছবি তুলতে গেলে এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিতে চায় এক হিজড়া। বিশেষ করে কুমিল্লা নগরীর সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার বিশ^রোডে প্রতিদিন এ ঘটনা ঘটছে।
সূত্রমতে, এ দেশে হিজড়াদের টাকা তোলা নতুন কিছু নয়। আগে মানুষ যা দিত, তা নিয়েই খুশি থাকত হিজড়ারা। কিন্তু ইদানীং তাদের আচরণ বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে তারা।
কুমিল্লার পদুয়াবাজার বিশ^রোডের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক হিজড়া তালিকা করে একেক সার্ভিসে চাঁদা উঠিয়ে থাকে। ফেনী থেকে কুমিল্লাগামী যাত্রীবাহী যমুনা বাসটি যখন হোটেল নুরজাহান ছেড়ে এসে ওভার ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে যাত্রী নামিয়ে দেয় ঠিক তখনি এই সংবাদের ছবিতে উল্লেখিত হিজড়া গাড়িতে উঠে পড়ে। গাড়িটি জাঙ্গালিয়া সিএনজি স্টেশনে আসা পর্যন্ত সে যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে। কেউ দিতে না চাইলে তাকে সজোরে থাপ্পর মারে,ধমক দেয় নানা অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে যাত্রীদের বিব্রত করে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি পদুয়াবাজারের ঠিক ওই স্থান থেকেই এ হিজড়া গাড়িতে ওঠে। ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে জাহিদ হাসান নামের এক ছাত্রের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। কলেজ ছাত্র জাহিদ অনুরোধ করে জানায়, গাড়ি ভাড়া ছাড়া তার কাছে আর কোন টাকা নেই। এ কথা বলার পর ছাত্রটিকে একটি থাপ্পর মারে ওই হিজড়া।
এছাড়া শিশু জন্ম নিলে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে হামলা চালায় হিজড়ারা। এসময় তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে বাচ্চা নিয়ে টানাটানি করতে দেখা যায় হিজড়াদের। এসব ক্ষেত্রে নানারকম সোর্সের সহায়তা নেয় হিজড়ারা। ট্রেনেও ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি করতে দেখা যায় হিজড়াদের। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া ও গালমন্দ করাসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে যাত্রীদের।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান রাসেল বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় আমার এক সিনিয়র সহকর্মীসহ আমরা দুইজন সাংবাদিক যমুনা বাসে করেই চৌদ্দগ্রাম থেকে আসার পথে পদুয়ার বাজার বিশ^রোডে আসলে একজন হিজড়া গাড়িতে উঠেই টাকা দেওয়ার জন্য যাত্রীদের ধমকাধমকি শুরু করে। এক মহিলা যাত্রী টাকার ভাংতি নেই বললে তার বোরকার ঘোমটা ধরে টান দিয়ে বলে টাকা বের করে। আর এক পুরুষ যাত্রী থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করতে চাইলে সাথের সংবাদকর্মী তার সেল ফোন দিয়ে ছবি উঠায়। এতে দ্রুত ওই সংবাদকর্মীর কাছে গিয়ে হুংকার দিয়ে বলে, মোবাইলের গ্যালারি থেকে ছবি ডিলেট কর, নইলে মোবাইল নিয়ে চলে যাব।
প্রতিদিনই পদুয়া বাজার বিশ^ রোডের বিভিন্ন পয়েন্টে তারা সহযোগিতার নামে এই অপকর্মটি করে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে যাত্রীদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে।
কেন হিজড়াদের বাসে তুলে যাত্রীদের বিব্রতকর অবস্থায় রাখেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে যমুনা বাসের কন্ট্রাকটার আবু জাহের বলেন, ভাই,আমরাও নিরুপায়। বাসে না উঠতে দিলে গ্লাসে ঢিল ছুড়ে মারতে চায়।
এই ঘটনা শুধু কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ^রোডেই নয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অহররহ এই ঘটনা ঘটাচ্ছে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক শ্রেণির চাঁদাবাজ হিজড়ারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *