ছোট গ্রাহকদের ওপর হম্বিতম্বি করলেও বড় খেলাপীদের কাছে পাত্তাই পাচ্ছে না তিতাস

বর্তমানে ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি গ্যাসের মোট বিল বকেয়া রয়েছে। তার বেশিরভাগই বড় গ্রাহকদের কাছে আটকে রয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো গড়ে ৪ দশমিক ৯৩ মাসের সমান বিল বকেয়া রেখেছে। তার মধ্যে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোই বেশি বিল বকেয়া রেখেছে। সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো প্রায় সাড়ে ৫ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখে। আর বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বিল বকেয়া রাখে সাড়ে ৪ মাসের সমান। অথচ নিয়মিত বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস বকেয়া বিল আদায়ে ছোট আবাসিক গ্রাহকদের ওপর তম্বিতম্বি করলেও বড় গ্রাহকদের কাছে কোনো পাত্তাই পাচ্ছে না। জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গ্যাসের বিলের বড় খেলাপীরা বিল পরিশোধে বিতরণ কোম্পানির নোটিসে কোনো তোয়াক্কা করে না। এমন পরিস্থিতিতে বড় বিল খেলাপীদের কাছে অনেকটা অসহায় হয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো জ্বালানি বিভাগের কাছে করণীয় জানতে চেয়েছে। জ্বালানি বিভাগও এই ইস্যুতে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে। গ্যাসের গ্রাহকদের মধ্যে মাত্র ১৭ ভাগ আবাসিক এবং সিএনজিতে ব্যবহার হয়। তাছাড়া চা বাগান আর বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ব্যবহার সব মিলিয়ে ৩ ভাগ হতে পারে। তার বাইরে ৮০ ভাগ গ্যাসই বড় গ্রাহকরা ব্যবহার করে। কিন্তু ২০ ভাগ গ্রাহকের বিল আদায়ে বিতরণ কোম্পানি যে প্রভাব বিস্তার করে ৮০ ভাগের বেলায় তার কিছুই করতে পারে না। গ্যাস বিতরণ আইনে ৩ মাসের বেশি বিল বকেয়া থাকলে নোটিস ছাড়াই গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে। ওই আইন অনুযায়ী জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে নোটিস ছাড়াই গ্যাস লাইন কেটে দেয়ার নির্দেশও দিয়েছে। ইতিমধ্যে জ্বালানি বিভাগের ওই নির্দেশ বিতরণ কোম্পানিগুলো কিছু এলাকায় বাস্তবায়নও শুরু করেছে। কিন্তু বড় গ্রাহকরা বিল না দিলেও তাদের ধারেকাছেও যেতে পারে না বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।
সূত্র জানায়, দেশে এখন যে শিল্প উৎপাদন হয় তার বেশিরভাগই নিজস্ব গ্যাসচালিত। ক্যাপটিভ ওসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রায় ২ দশমিক ৯৬ মাসের সমপরিমাণ বিল বকেয়া রাখে। আর তাতেও সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোই বেশি বিল বকেয়া রাখে। সরকারি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গড়ে ৯ দশমিক ৭১ মাসের সমপরিমাণ বিল বকেয়া রয়েছে। আর বেসরকারি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে বকেয়ার পরিমাণ দুই দশমিক ৮৮ মাসের সমান। তাছাড়া শিল্প মালিকরা প্রায় ৪ মাসের সমান বিল বকেয়া রেখেছে। এখানেও সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ১২ দশমিক ৭৫ মাসের সমান বিল বকেয়া রেখেছে। আর বেসরকারী শিল্প মালিকরা বকেয়া রেখেছে ৩ দশমিক ৯১ মাসের সমান বিল।
সূত্র আরো জানায়, ছোট গ্রাহকদের বেশিরভাগই নিয়মিত বিল পরিশোধ করে। আবার তারাই যদি কোন সময় বিল না দেয় তাহলে তাদের লাইন কাটাসহ সব ধরনের আইন প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু বড় গ্রাহকদের লাইন কাটা তো দূরের কথা, তাদের গ্যাস বিল পরিশোধের নোটিস দিলে ওই নোটিসের জবাবও তারা দেয় না। কাজেই আইন, নির্দেশনা থাকলেও ওই আইনের প্রয়োগ কেবল ছোট গ্রাহকদের বেলাতেই হয়ে থাকে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আলী ইকবাল মো. নূরুল্লাহ জানান, বড় খেলাপীদের বিল পরিশোধ করার জন্য নোটিস দেয়া হয়েছিল। গত ২৬ জানুয়ারি ওই নোটিসের সময়সীমাও শেষ হয়েছে। খেলাপীদের মধ্যে বিদ্যুতের গ্রাহকও রয়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে তিনি পরবর্তী করণীয় জানতে চাইলে জ্বালানি সচিব তাৎক্ষণিক কোন নির্দেশনা দিতে পারেননি। বরং তিনি বলেছেন, খেলাপীদের মধ্যে যেহেতু বিদ্যুতের গ্রাহকও রয়েছে, তাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *