Recent News
আক্কেলপুর পৌর নির্বাচনে এবার দলীয় প্রার্থী- শহীদুল ও স্বপন

গতবারের মতো এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে। মেয়র এইচ.এস.সি. পাশ হতে হবে ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এস.এস.সি. পাশ হতে হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে খবর ছড়ালেও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতা মূলক নয় এখন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে মাত্র। সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে ৩২৮টি পৌরসভা রয়েছে। এরমধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটহয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভা গুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশিরভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। এবার উত্তরাঞ্চলের জয়পুরহাটের সদর বাদ দিয়ে আক্কেলপুর ও কালাই পৌরসভা নির্বাচন চ’ড়ান্ত।অল্প কিছু দিন আগে কালইর সাবেক মেয়রের মৃত্যু জনীত কারণে তফিকুল আলম বেলাল উপ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। আক্কেলপুর পৌরসভার বেশ কয়েকজন দলীয় নমিনেশন চাইলেও আলোচনায় আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল আলম চৌধুরী, আব্দুর রহিম স্বাধীন মাষ্টার, সাবেক পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ.বি.এম. এনায়েতুর রহমান স্বপন আকন। এছাড়াও সৈয়দ টিপু, আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল ও মজিবুর রহমানের নাম এলাকাতে আলোচনায় রয়েছে। তবে কার ভাগে দলীয় নৌকার প্রতীক জুটবে সেটা সময়ের ব্যপার। তবে গতবারের মেয়র প্রার্থী স্বপন এবারও আশা করছেন দলীয় ভাবে তিনি নমিনেশন পাবেন। এদিকে ৩/৪ জন প্রার্থীর কথা শুনা গেলেও তাদের নিয়ে এলাকায় প্রশ্নবিদ্ধ রয়েছে।
আক্কেলপুর পৌরসভা গঠনের পর আফতাব উদ্দিন মন্ডল প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর কামরজ্জামান কমল, আলমগীর চৌধুরী বাদশা। বর্তমানে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর দায়িত্ব পালন করছেন। এবার তিনি নির্বাচন করছেন না। তিনি বলেন, বাজেট ও বরাদ্দের উপর নির্ভরশীল হয়ে আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে আক্কেলপুর পৌরসভাকে ঢেলে সাাঁজিয়েছি। দল তেকে এবার যাকেই নমিনেটেড করা হোক- আমরা তার জন্যই কাজ করবো। অপর প্রার্থী শহীদুল আলম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ দিন আওয়ামী ঘরনার রাজনীতি করে আসছি। দলের আদর্শ থেকে শ্রেণীচূত্য হতে পারিনি। আমার দৃঢ় বিশ^াস জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার আমাকে দলীয় প্রতীক দিবেন। অপর প্রার্থী এনায়েতুর রহমান স্বপন আক্কেলপুরের ৪ নং ওয়ার্ডের ভোটার। ৮০-৯০ দশকে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। একসময় তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৯০ দশকে তিনি যুব লীগের রাজনীতি করেন। আর সর্বশেষ পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। একজন ভাল ক্রীড়াবিদও। ডি.এফ.এ. তে সভাপতি ছাড়াও একটি মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। ডায়াবেটিক সমিতি ও রোগী কল্যাণ সমিতি সহ আরো অনেক সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস প্রভাবে ব্যক্তিগত ভাবে ২৮ শত পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা করে নন্দীত হয়ে আছেন এলাকাতে। স্বপনের বড় ভাই আলহাজ¦ আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ ৮৬ তে এই অঞ্চলের সাংসদ ছিলেন। তার অন্য ভাইরা মুক্তিযোদ্ধা। অনেক গুলো ভাল কাজের জন্য স্থানীয় মানুষজন তাকে এবার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করতে চাইছেন।
অপর প্রার্থী শহীদুল আলম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিলেকশন কমিটি তথা- আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা-আমার পলেটিক্যাল ক্যারিয়ার ও নিকট অতীতের কর্মকান্ড আর এলাকার জনগনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করে-ইনশাল্লাহ আমাকে দলীয় ভাবে পূনরায় নমিনেটেড করবেন – আমার দৃঢ় বিশ^াস। আর সেই বিশ^াসের উপর ভর করে আগামী পৌরনির্বাচনের জন্য প্রস্ততি নিচ্ছি।
শহীদুল আলম চৌধুরী বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আক্কেলপুর পৌরসভার পুঞ্জীভূত সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে আক্কেলপুর পৌরসভাকে ঢেলে সাজাবো।
পাশাপশি এলাকার ময়লা আবর্জনা দূরে সরিয়ে একটি ড্যাম্পিং স্টেশন নির্মাণের মধ্যদিয়ে আক্কেলপুরের পরিবেশ আরো নান্দনিক করে তুলতে চাই। তিনি বলেন, এলাকার দুঃস্থ মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে আমার পৌরসভার ইপিআই কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে। সবকিছুই হবে পৌরসভার বাজেট আর বরাদ্দের উপর নির্ভর করে। আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমি যতটুকু পারি জনগনের পাশে থাকবো। অতীতে যেমন তাদের সুখে দুঃখে ছিলাম, এখনও আছি। তিনিবলেন, মাদক সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ উন্নয়নের বাধাগ্রস্ত হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমি অতীতে যেমন সোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি। দীর্ঘ রাজনীতি করার অভিজ্ঞতায় বলেন, দলের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতির বানিজ্য করিনি । আমি কোন গ্রুপিং এর রাজনীতি করি না। কাউকে করতেও উৎসাহ দেই না । আমার শুধু একটাই গ্রুপ- জন নেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *