Recent News
সাকিবদের ছাপিয়ে খুলনার জয়ের নায়ক আরিফুল

ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ব্যর্থ ছিলেন ইমরুল-মাহমুদউল্লাহরাও। টপ অর্ডারদের ব্যর্থতার দিনে আলো ছড়ালেন আরিফুল হক। শেষ ওভারে অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে জেমকন খুলনাকে দারুণ জয় এনে দেন তিনি। আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ফরচুন বরিশালকে চার উইকেটে হারিয়েছে জেমকন খুলনা। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে নয় উইকেটে ১৫২ রান করে ফরচুন বরিশাল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে ১৫৫ রান করে জেমকন খুলনা।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ছয় বলে ২২ রান দরকার ছিল খুলনার। জয়টা অনেকটা বরিশালের দিকেই ছিল। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আরিফুল। এক ওভারে চারটি ছক্কা হাঁকান তিনি। ফলে জয়ের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে খুলনা। ৩৪ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন খুলনার জয়ের নায়ক আরিফুল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বরিশালের দেওয়া ১৫৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে শুরুতেই চাপে পড়ে খুলনা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ওভারের তৃতীয় বলে প্রথমে এনামুল হক বিজয়কে সাজঘরে পাঠান তাসকিন। পঞ্চম ওভারে ইমরুল কায়েসকে বানান নিজের দ্বিতীয় শিকার।

দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর সাকিব-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে খুলনা। মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফেরার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন তিনি। এর পর ষষ্ঠ ওভারে সাকিবের প্রতিরোধ ভাঙেন তরুণ বোলার সুমন খান। ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচে ১৩ বলে ১৫ রান করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের বিদায়ের পর হাল ধরেন জহিরুল ইসলাম অমি ও আরিফুল হক। ৩১ রানে অমিকে ফিরিয়ে ওই জুটি ভাঙেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। এরপর শামিম হোসেনকে নিয়ে দলকে টানেন আরিফুল। ২৬ রানে সুমনের বলেই কাটা পড়েন শামীম। এরপর মাথা ঠান্ডা রেখে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান আরিফুল।

এর আগে টস জিতে বোলিং করতে নেমে শুরুতেই সাফল্য পায় খুলনা। ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট পেয়ে শুরু করেন শফিউল। রানের খাতা খোলার আগে মেহেদী হাসান মিরাজকে আউট করেন তিনি। তামিম ইকবালকে শিকার বানান শহীদুল। ফেরার আগে ১৫ বলে ১৫ রান করেন অধিনায়ক। নবম ওভারে উইকেট পান সাকিব। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে আফিফকে আউট করেন দেশসেরা ক্রিকেটার। দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর পারভেজের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে বরিশাল। ১২ ওভারে ওই প্রতিরোধ ভাঙেন হাসান মাহমুদ। ১১ রানে ফিরে যান ইরফান শুক্কুরও। এরপর তৌহিদ হৃদয়ের ব্যাটে লড়াই করে তামিমদের দল। কিন্তু শহীদুলের দারুণ বোলিংয়ের সামনে বেশিদূর যেতে পারেনি বরিশাল। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে লড়াইয়ের পুঁজি পায় তামিমের দল।

খুলনার হয়ে বল হাতে ১৮ রান খরচায় এক উইকেট নিয়েছেন সাকিব। মাত্র ১৭ রান দিয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নিয়েছেন শহীদুল। সমান দুটি করে নিয়েছেন শফিউল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফরচুন বরিশাল : ২০ ওভারে ১৫২/৯ (তামিম ১৫, মেহেদী হাসান মিরাজ ০, আফিফ হোসেন ২, ইরফান শুক্কুর ১১, অঙ্কন ২১, তৌহিদ ২৭, সুমন ০, তাসকিন ১২, আমিনুল ৫, রাব্বি ২ ; সাকিব ৩-০-১৮-১, শফিউল ৪-০-২৭-২, আল আমিন ৪-০-৩২-০, হাসান মাহমুদ ৪-০-৪৫-২ , শহীদুল ৪-০-১৭-৪)।

জেমকন খুলনা :  ২০ ওভারে ১৫৫/৬  (এনামুল ৪, ইমরুল ০, সাকিব ১৫, মাহমুদউল্লাহ ১৭, অমি ৩১, আরিফুল ৪৮*, শামীম ২৬ শহীদুল ; তাসকিন ৪-০-৩৩-২০, সুমন ৪-০-২১-২, মিরাজ ৩.৫-০-৩৬-১, রাব্বি ৪-০-৩২-১, আমিনুল ৩-০-২০-০, আফিফ ১-০-১২-১)।

ফল : চার উইকেটে জয়ী জেমকন খুলনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *